সফলতার মোড়
গোলাম রাব্বি চাই ছুঁতে ওই সফলতাকে,
যা সকলেই চায়।
সফলতার সংজ্ঞা যাহা,
আমার জানা নাই।
জ্ঞানী সকলে বলে শুনি,
সফলতা কারে কয়।
সফল মানে পৃথিবী জয়,
এটাই হবে বোধয়।
চাই সকলে পায় না কেহ,
ওই তাবিজের দেখা।
পাইতো যদি সকলে তাহার,
কেউ অসফল হইতো না।
সফলতা নিয়ে যখন,
সর্বলোকে কই।
আমি তখন চিন্তায় পড়ি,
কি করি এখন।
সকলেই বলে সফল হতে,
কিভাবে হব ভাই।
সফল হতে লাগে যে হায়,
ত্যাগ তিতিক্ষা ভাই।
এমনি এমনি হয়নি সফল,
যারা রয়েছে সফল।
সফল লোকেরা বলে সদায়,
সময় লাগবে প্রচুর।
একদিনেতে পায় না কেহ,
সফলতার খবর।
দীর্ঘ দিনে আনতে হবে,
সফলতার মোড়।
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
সফলতার মোড় কবিতায় লেখক সফলতার প্রকৃত রূপ, অর্থ এবং তা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পথের কথা তুলে ধরেছেন। কবিতার শুরুতে দেখা যায়, সফলতা এমন এক আকাঙ্ক্ষা যা সবাই চায়, কিন্তু তার সঠিক সংজ্ঞা কারো কাছে স্পষ্ট নয়। কেউ মনে করে সফলতা মানেই পৃথিবী জয়, আবার কেউ ভাবে এটি জীবনের কাঙ্ক্ষিত প্রাপ্তি। অথচ বাস্তবে সফলতা কারো কাছে সম্পদের ভাণ্ডার, কারো কাছে সুখ-শান্তি, আবার কারো কাছে নিজের স্বপ্নপূরণ।
কবিতায় বলা হয়েছে, সফলতা এমনি এমনি অর্জিত হয় না। যাঁরা আজ সফল বলে পরিচিত, তাঁদের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে বছরের পর বছর ত্যাগ, অধ্যবসায় আর ধৈর্যের গল্প। তাই কবি বুঝিয়েছেন যে সফলতা পেতে হলে লাগবে প্রচেষ্টা, কষ্ট সহ্য করার মানসিকতা এবং দৃঢ় সংকল্প। এটি একদিনে অর্জনযোগ্য নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর সাধনার মাধ্যমে সম্ভব।
এছাড়াও কবিতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য প্রকাশ পেয়েছে—যদি সফলতা সহজেই সবার হাতে ধরা দিত, তবে পৃথিবীতে কোনো অসফল মানুষ থাকত না। এর মানে হলো সফলতার পথ সহজ নয়, বরং এটি কণ্টকাকীর্ণ ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ। এজন্য প্রয়োজন ইতিবাচক মানসিকতা ও অবিরাম চেষ্টা।
শেষের লাইনে “দীর্ঘ দিনে আনতে হবে সফলতার মোড়”—এই লাইনটি পুরো কবিতার সারাংশ বহন করে। এটি আমাদের শেখায় ধৈর্য ধরে পথ চলতে, নিজের প্রতি আস্থা রাখতে এবং সংগ্রামের মধ্য দিয়েই সফলতার সোপান তৈরি করতে।
সব মিলিয়ে, কবিতাটি সফলতা অর্জনের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও গভীর জীবনদর্শন প্রকাশ করেছে। এটি পাঠককে অনুপ্রাণিত করে এবং মনে করিয়ে দেয় যে সফলতা হলো না কোনো সহজলভ্য তাবিজ, বরং দীর্ঘ পথচলার ফলাফল।
![]()
0 মন্তব্যসমূহ